অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা, ২২ জানুয়ারি: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ব্যাংকিং খাত: বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’ শীর্ষক লোকবক্তৃতায় সতর্ক করেছেন, যে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ পুনরায় ফিরতে পারে, যদি বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ কার্যকর না হয়।
তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত যেন প্রভাব না ফেলে তা নিশ্চিত করা জরুরি। দুর্বৃত্তায়ন, অনিয়ম ও পরিবারতন্ত্রের কারণে ব্যাংকিং খাতের অবস্থা নাজুক, এবং বর্তমানে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা ব্যাংকিং খাত থেকে বেরিয়েছে, যার একটি বড় অংশ সম্ভবত বিদেশে পাচার হয়েছে।
ড. আহসান মনসুর আরও উল্লেখ করেন, দেশে ৬১টি ব্যাংক রয়েছে যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি; বাস্তবতার ভিত্তিতে ১০–১৫টি ব্যাংকই যথেষ্ট। সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে দুটি রাখতে এবং বাকিগুলো একীভূত (মার্জ) করার পরিকল্পনা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী মার্চের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
গভর্নর বলেন, বাংলাদেশে আর্থিক খাতকে শুধুমাত্র ব্যাংকিং খাতে সীমাবদ্ধ রাখা ভুল। বন্ড বাজার, স্টক মার্কেট, ব্যাংকিং এবং ইন্স্যুরেন্স—এই চারটি স্তম্ভের মধ্যে বন্ড বাজার সবচেয়ে অবহেলিত। তিনি টেকসই উন্নয়নের জন্য আর্থিক খাতের পূর্ণ কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম ব্যাংকিং খাতের পুনরুদ্ধারে গভর্নরের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বলেন, বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে ইতিবাচক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।
অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শরিফ মোশারফ হোসেন বলেন, ঋণখেলাপির কারণে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে ব্যাংকিং খাতকে আরও কঠোর মনিটরিংয়ের আওতায় আনা প্রয়োজন।


