অনলাইন ডেস্ক

বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দর গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ডলারের মূল্য টানা চার দিন ধরে পতনের পথে রয়েছে, মঙ্গলবার প্রধান বৈশ্বিক মুদ্রার তুলনায় ১.৩ শতাংশ হ্রাস পাওয়া গেছে, এবং বুধবার সকালেও আরও ০.২ শতাংশ পতন হয়েছে।
গত এক বছরে ডলারের মান প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি, গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি এবং ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের সম্ভাবনার মতো ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাই মূলত এই পতনের কারণ।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দুর্বল ডলার দুই ধার বিশিষ্ট তলোয়ার। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য এটি উপকারি, কারণ বিদেশি আয়ের মূল্য বাড়ে। তবে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির চাপও তৈরি হতে পারে।
ডলারের পতনের ফলে অন্যান্য মুদ্রাও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সুইস ফ্রাঁ ডলারের তুলনায় দশকের উচ্চতম পর্যায়ে অবস্থান করছে; চলতি বছরে ফ্রাঁ ৩ শতাংশ শক্তিশালী হয়েছে, যেখানে আগের বছরে বৃদ্ধি ছিল ১৪ শতাংশ।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে। আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম ৫,২০০ ডলারের উপর উঠে রেকর্ড স্পর্শ করেছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর গত এক বছরে স্বর্ণের দাম প্রায় ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইন্টারঅ্যাকটিভ ব্রোকার্সের বাজার কৌশলবিদ স্টিভ সসনিক বলেন, “ডলারের দুর্বলতা দুই ধার বিশিষ্ট তলোয়ারের মতো। বহুজাতিক কোম্পানির জন্য এটি সুবিধাজনক, কিন্তু সাধারণ ভোক্তাদের জন্য মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে।”
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর ফেডারেল রিজার্ভের চাপ, মার্কিন অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ঋণের বোঝা আরও বাড়তে পারে, যা ডলারের দুর্বলতাকে আরও তীব্র করতে পারে।


