অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে ‘বিক্রি’ করার অভিযোগ তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এ অভিযোগ করেন তিনি।
ওই পোস্টে ডাকসুর সাবেক ভিপি প্রার্থী আবদুল কাদের লেখেন, “জনাব নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এখন যা করতেছে, যা বলতেছে, সেটা স্রেফ নোংরামি। পায়ে পাড়া দিয়ে ঝামেলা বাধানোর জন্য তিনি উঠে পড়ে লাগছেন। নিজের স্বার্থে শহীদ ওসমান হাদি ভাইকে বিক্রি করতেছেন। ৫ আগস্টের পরে এ রকম রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরে আসুক, সেটা আমরা কখনো চাই নাই, এ দেশের মানুষও চায় না।”
নাসীরুদ্দীনের আন্দোলনে ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কাদের। তিনি বলেন, “নাসীর ভাই আন্দোলনে এই করছেন, সেই করছেন বলে হম্বিতম্বি করতেছেন। কিন্তু আমি, আমরা তেমনটা দেখি নাই।”
গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক কাদের দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পরপরই বাংলামোটরের ‘বিয়াম’ ভবনে আসিফ, নাহিদ ও মাহফুজের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তারা জুনিয়র লেয়ারের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
তিনি বলেন, “আমরা কনসার্ন জানাইছিলাম—নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভাই কোত্থেকে এসে লিয়াজোঁ কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ভাগিয়ে নিলেন?”
নাসীরুদ্দীনের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন কাদের। তার ভাষায়, “তিনি শিবির, ছাত্র ফেডারেশন, এবি পার্টি ভেঙে আসা লোক। তিনি আবারও যে আমাদের এই নতুন উদ্যোগকে ভেঙে দেবেন না, সেটার গ্যারান্টি কি?”
নাসীরুদ্দীনের আন্দোলনে অবদানের প্রসঙ্গে নাহিদ হাসানের বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন কাদের। তিনি লেখেন, “নাহিদ ভাই বললেন, নাসীর ভাই নাকি আন্দোলনের সময় একদিন তাকে আশ্রয় দিয়েছেন এবং ডিআরইউতে সংবাদ সম্মেলনের দিন হেল্প করেছেন।”
এ প্রসঙ্গে কাদেরের পাল্টা প্রশ্ন ছিল, “এতটুকু অবদান এবং তার অতীত ইতিহাস বিবেচনায় কি তাকে লিয়াজোঁ কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া উচিত ছিল?”
তিনি আরও জানান, ওই বৈঠকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শপথ করে বলেছিলেন, অতীতের মতো তিনি আর দল ভাঙবেন না। কিন্তু বাস্তবে সেই অঙ্গীকারের কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন কাদের।
শেষে হতাশা প্রকাশ করে তিনি লেখেন, “কিন্তু এখন এসে আমরা সেই অঙ্গীকারের ছিটেফোঁটাও দেখতে পেলাম না! আফসোস…।”
এ বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


