দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুর, ৭ ফেব্রুয়ারি: দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দিনাজপুরে এসে আবেগাপ্লুত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি নিজেকে “দিনাজপুরের নাতি” পরিচয় দিয়ে স্থানীয় মানুষের কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান।
শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত ওই জনসভায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সভাস্থল এলাকা।
নানি-নাতির ভালোবাসার প্রসঙ্গ টেনে ভোটের আহ্বান
বক্তব্যের শুরুতেই আবেগঘন কণ্ঠে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পর নানিবাড়িতে এসে তিনি আবেগাপ্লুত। নানিবাড়িতে নাতি এলে তাকে খালি হাতে ফেরানো হয় না—এই সম্পর্কের উদাহরণ টেনে তিনি স্থানীয় ভোটারদের কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
কৃষি ও শিল্পভিত্তিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি
দিনাজপুরের কৃষি সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চল বিশেষ করে দিনাজপুর কৃষিভিত্তিক অঞ্চল। কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হলে কৃষক ও স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।
তিনি দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী কাটারিভোগ চাল ও লিচুকে বিশ্ববাজারে পরিচিত করার কথা বলেন। একইসঙ্গে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও রপ্তানি সহজ করতে আধুনিক হিমাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র ও শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষকদের জন্য কার্ড চালু করা হবে, যাতে তারা সহজে ঋণ, সার ও কৃষিসহায়তা পেতে পারেন। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ এবং ক্ষুদ্র ঋণ পরিশোধে সরকারি সহায়তার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।
গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রসঙ্গ
জনসভায় তিনি বলেন, জনগণ দীর্ঘদিন প্রকৃত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। আসন্ন নির্বাচনে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও উত্তরাঞ্চল উন্নয়ন
তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে পানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা এবং উত্তরাঞ্চলে কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
এর আগে তিনি নীলফামারী ও ঠাকুরগাঁওয়ের কর্মসূচি শেষে হেলিকপ্টারে করে দিনাজপুরে আসেন বলে জানা গেছে।


