বিডিরিপোর্টস২৪ ডেস্ক

মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিপুল পরিমাণ নতুন নথি, ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) গত ৩০ জানুয়ারি এপস্টেইন–সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লাখ পাতা নথি, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং প্রায় ২ হাজার ভিডিও প্রকাশ করে।
প্রকাশিত নথিতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু, মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসসহ বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। এ ছাড়া ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিমের নামও কিছু ইমেইল ও যোগাযোগের প্রসঙ্গে উল্লেখ রয়েছে বলে নথিতে দেখা যায়।
তবে এসব নাম উঠে আসা মানেই অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ—এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন।
ট্রাম্প–এপস্টেইন সম্পর্ক
নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম একাধিকবার এসেছে। ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, একসময় এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও সামাজিক যোগাযোগ ছিল। তবে তিনি দাবি করেছেন, বহু বছর আগেই সেই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয় এবং এপস্টেইনের যৌন অপরাধ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত একটি আইনের আওতায় নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার প্রায় ছয় সপ্তাহ পর এসব নথি প্রকাশ করা হয়।
মোদিকে ঘিরে দাবি ‘ভিত্তিহীন’ বলছে ভারত
এপস্টেইন-সংক্রান্ত নতুন ইমেইলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জড়িয়ে করা দাবিগুলোকে ‘ভিত্তিহীন ও অবিশ্বাসযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত সরকার।
গত ৩১ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রকাশিত নথিতে মোদিকে নিয়ে যেসব মন্তব্য রয়েছে, সেগুলোর কোনো প্রমাণমূল্য নেই।
আনোয়ার ইবরাহিমের স্পষ্ট অস্বীকার
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিমও এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকার অভিযোগ নাকচ করেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামার বরাতে জানা গেছে, ১ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্রায় ১৪ বছর পুরোনো একটি ইমেইলে তাঁর নাম ‘ড্রপ’ করা হয়েছে, যা সম্পর্কে তিনি আগে কিছুই জানতেন না।
যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক চাপ
এপস্টেইন নথিতে নাম আসার পর যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক মন্ত্রী লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন। যদিও তিনি লেবার পার্টির সদস্যপদ ছেড়েছেন, তবু তাঁর বিরুদ্ধে পূর্ণ তদন্তের দাবিতে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। বিরোধীদলীয় নেতারা সরকারের কাছে এ বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
কাবার গিলাফ পাঠানোর তথ্যও নথিতে
প্রকাশিত নথিতে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফের (কিসওয়া) কাপড়ের একটি অংশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক নারীর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয় এবং পরে তা জেফরি এপস্টেইনের কাছে পৌঁছে। এ বিষয়টি নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তদন্ত ও বিতর্ক চলছেই
নথিগুলোতে এপস্টেইনের কারাগারে থাকার সময়কার মানসিক স্বাস্থ্য রিপোর্ট, তাঁর মৃত্যুর তথ্য এবং সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তসংক্রান্ত নথিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ম্যাক্সওয়েল অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচারে সহায়তার দায়ে ইতোমধ্যে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টেইন নথি প্রকাশের ফলে আগামী দিনগুলোতে আরও রাজনৈতিক, আইনি ও কূটনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে। তবে কার বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির ওপর।


