আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তেহরান, ৩০ জানুয়ারি: ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)–কে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্তের জবাবে ইউরোপীয় দেশগুলোকে ‘কঠোর পরিণতি’ ভোগের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। শুক্রবার দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেই এ সতর্কবার্তা দেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে এজেই বলেন, “ইউরোপীয়দের এই শত্রুতামূলক পদক্ষেপ—যেখানে তারা বিপ্লবী গার্ডসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে—এর অবশ্যই জবাব দেওয়া হবে। তারা তাদের এই বোকামির পরিণতি ভোগ করবে।” তবে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানানো হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
মার্কিন হামলার আশঙ্কার মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ইরানের আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা ক্যালাস।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সিদ্ধান্তকে তেহরান সরাসরি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত উসকানি হিসেবে দেখছে। বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে ইরান ও ইউরোপের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও অবনতি হতে পারে। পাশাপাশি পরমাণু চুক্তিসহ বিভিন্ন চলমান ও সম্ভাব্য আলোচনাও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ইরানের বিরুদ্ধে এখনই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না বলে তিনি আশাবাদী।
ট্রাম্প বলেন, “আমার প্রথম মেয়াদেই আমি মার্কিন সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলেছিলাম। এখন আমাদের একটি বড় ও শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ইরানের দিকে এগোচ্ছে। আশা করি, সেটি ব্যবহার করতে হবে না।”
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্ত, ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।


