অনলাইন ডেস্ক

গিয়ান-বারে সিনড্রোম (Guillain-Barré Syndrome – GBS) একটি বিরল কিন্তু মারাত্মক স্বয়ং-প্রতিরক্ষা রোগ, যেখানে রোগীর ইমিউন সিস্টেম পেরিফেরাল স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করতে থাকে। এটি দ্রুত প্রগতিশীল পেশী দুর্বলতা এবং কখনও কখনও সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতের কারণ হতে পারে।
রোগের প্রকৃতি:
-
GBS মূলত স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে, যা আমাদের হাত-পা নড়াচড়া, স্পর্শ ও তাপমাত্রা অনুভব, এবং নিঃশ্বাসের জন্য প্রয়োজনীয় পেশী নিয়ন্ত্রণ করে।
-
রোগের শুরুতে সাধারণত হালকা পেশী দুর্বলতা বা অসুবিধা দেখা দেয়।
-
দ্রুত প্রগতিতে রোগীর হাত-পা, মুখ, এবং শরীরের অন্যান্য পেশী দুর্বল হতে পারে।
-
কিছু ক্ষেত্রে, খাদ্য চিবানো, গিলে ফেলা, কথা বলা, এমনকি নিশ্বাস নেওয়াতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কোন বয়সে হয়:
-
যেকোনো বয়সেই GBS হতে পারে।
-
তবে WHO অনুযায়ী, ৩০–৩৫ বছর বয়সী মানুষদের এবং নারীদের তুলনায় পুরুষদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
লক্ষণ:
GBS সাধারণত নিম্নলিখিত উপসর্গ দিয়ে শুরু হয়:
-
হাত ও পায়ের অস্পষ্ট বা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাওয়া দুর্বলতা।
-
পেশী ঝাঁকুনি বা টান অনুভূত হওয়া।
-
পায়ের ও হাতের অনুভূতি ঝলসানো, ঝনঝন করা বা চুলকানো।
-
দেহে সমন্বয়হীনতা (coordination problem)।
-
কথা বলা বা নিঃশ্বাসের সমস্যার মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে তা তাত্ক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন।
চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা:
-
GBS-এর কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই।
-
তবে রোগীকে হাসপাতালে রাখা, সাপোর্টিভ কেয়ার, ফিজিওথেরাপি এবং কখনও কখনও ইমিউনোগ্লোবুলিন বা প্লাজমা এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।
-
দ্রুত সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা রোগের গম্ভীরতা কমাতে সাহায্য করে।
সতর্কতা ও পরামর্শ:
-
হঠাৎ পেশী দুর্বলতা বা হাত-পায়ে অনুভূতি পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
-
রোগের প্রাথমিক চিহ্ন উপেক্ষা করা গুরুতর পক্ষাঘাত এবং শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।


