নিজস্ব প্রতিবেদক

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, পেশাদার ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নতুন করে ৪৮৯টি পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০৭টি কর্মকর্তা পদ এবং ৩৮২টি সহায়ক কর্মচারী পদ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশের ভিত্তিতে গঠিত ‘পদ সৃজন কমিটি’—এর প্রথম সভায় রবিবার এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন পায়।
নতুন সৃষ্ট পদ: কোনগুলো থাকছে?
১. কর্মকর্তা পদ (মোট ১০৭)
-
জুডিশিয়াল সার্ভিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা: ১০৫টি
-
মুখ্য হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা: ১টি
-
সিস্টেম অ্যানালিস্ট: ১টি
এই পদগুলো তৈরি হলে প্রশাসনিক ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়বে এবং আদালতের ডিজিটাল পরিচালনায় প্রযুক্তিগত সহায়তা শক্তিশালী হবে।
২. সহায়ক কর্মচারী পদ (মোট ৩৮২)
বিচার কার্যক্রম ও সচিবালয়ের সার্বিক প্রশাসনিক সেবাকে পেশাদারভাবে পরিচালনার জন্য সহায়ক কর্মচারী পদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। আদালতের ক্রমবর্ধমান কাজের চাপ সামাল দিতে এ পদগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কমিটির সভা ও সিদ্ধান্ত
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,
আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের কনফারেন্স কক্ষে ‘পদ সৃজন কমিটি’-এর প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কমিটির মোট ৮ সদস্যের মধ্যে ৭ জন উপস্থিত ছিলেন। শুধুমাত্র অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সভায় যোগ দিতে পারেননি।
সভার আলোচনায় কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিচার প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল সুবিধা সম্প্রসারণ এবং আদালতের জনবল ঘাটতি পূরণে দ্রুত পদ সৃষ্টি প্রয়োজন—এমন মতামত উঠে আসে।
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের প্রশাসন আরও শক্তিশালী হবে
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম ছিল। বিশেষ করে ডিজিটাল কোর্ট সিস্টেম, কেস ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার, নথি সংরক্ষণ, হিসাব ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক তদারকিতে দক্ষ জনবলের ঘাটতি ছিল স্পষ্ট।
নতুন পদ সৃষ্টির ফলে—
-
বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বাড়বে,
-
প্রশাসনিক জট কমবে,
-
প্রযুক্তিনির্ভর আদালত কার্যক্রম আরও এগিয়ে যাবে,
-
জনসাধারণ দ্রুত সেবা পাবে।
সুপ্রিম কোর্ট সূত্র মনে করছে, এই পদগুলো অনুমোদনের পর নিয়োগ প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হলে বিচার ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।


