অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনই ইরানে সরাসরি সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে না। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে) জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার ক্ষেত্রে ইরান জবাবে ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্যান্য সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে নিজের ঘাঁটিগুলোতে আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে। পেন্টাগন ইতিমধ্যেই জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব ও কাতারসহ বিভিন্ন এলাকায় থাড ও প্যাট্রিয়ট সিস্টেম পাঠিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই সামরিক প্রস্তুতি “একটি বিশাল ও সুন্দর নৌবহর” হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে নেতৃত্বে রাখা হয়েছে, যার লক্ষ্য ইরানকে নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি করানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা।
যদিও সামরিক প্রস্তুতি তুঙ্গে, ডব্লিউএসজে জানিয়েছে, ইরানের ওপর হামলা খুব শিগগির হবে না। কারণ ইসরায়েলসহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখনো পুরোপুরি সম্ভব হয়নি।
গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালালে ইরান ইসরায়েল এবং কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিতে প্রতিহামলা চালিয়েছিল। যদিও আগাম সতর্কবার্তার কারণে ক্ষয়ক্ষতি সীমিত ছিল। এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠার পরেই এবার হামলার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করে, তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।” জবাবে ট্রাম্প বলেন, “অবশ্যই তিনি এমন কথাই বলবেন,” কিন্তু একই সঙ্গে কূটনীতির পথও খোলা রাখার ইঙ্গিত দেন।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কিছু অগ্রগতি হয়েছে। রাশিয়া ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা সতর্ক করে বলছে, যেকোনও বলপ্রয়োগ গোটা অঞ্চলে ভয়াবহ অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, আরটি


