রবিবার, জুলাই ১২, ২০২৬

যদি আবার বিয়ের সুযোগ পেতেন, তাহলে কি এখনকার মানুষটাকেই বিয়ে করতেন?

পাঠক প্রিয়

কয়েকদিন আগে একটা লেখা চোখে পড়েছিল।
বিবাহিত নারীদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিল—
“যদি আবার বিয়ের সুযোগ পেতেন, তাহলে কি এখনকার মানুষটাকেই বিয়ে করতেন?”
উত্তরগুলো পড়ে মনটা ভার হয়ে গিয়েছিল।
অধিকাংশের উত্তর ছিল— “না।”
কারণ হিসেবে উঠে এসেছে—
অবহেলা, বদলে যাওয়া আচরণ, অসম্মান, কেয়ারের অভাব।
অনেকে তো সরাসরি লিখেছেন—
“আগে জানলে বিয়েই করতাম না।”
এই কথাগুলো কোনো আবেগী অভিযোগ নয়।
এগুলো একেকটা নারীর নীরব ভেঙে পড়ার স্বীকারোক্তি।
আমরা প্রায়ই শুনি—
“বিয়ের পর ছেলেরা বদলে যায়।”
কমেন্টগুলো পড়লে বোঝা যায়,
এটা গল্প না—এটা বাস্তব অভিজ্ঞতা।
তবুও একই সমাজে আবার এমন দাম্পত্যও দেখি,
যেখানে বহু বছর পরেও স্ত্রী স্বামীর প্রতি কৃতজ্ঞ।
স্বামী বাজার থেকে হঠাৎ একটা গোলাপ এনে দিলে,
অথবা স্ত্রীর পছন্দের ছোট্ট কিছু নিয়ে এলে—
স্ত্রীর চোখ ভরে ওঠে ভালোবাসায়।
এই মানুষগুলোও আমাদের চারপাশেই আছে।
তাহলে পার্থক্যটা কোথায়?
পার্থক্যটা আসলে মনোভাবে।
অনেকেই বিয়ের পর মনে করে—
“পেয়ে তো গেছি।”
তারপর আর আগের মতো কেয়ার, চেষ্টা, সময় বা অগ্রাধিকার থাকে না।
নামমাত্র স্বামী-স্ত্রী হয়ে থেকে যায়।
কিন্তু সত্যিটা হলো—
বিয়ে শুধু পেয়ে যাওয়ার নাম নয়,
বিয়ে প্রতিদিন আগলে রাখার নাম।
একজন পুরুষের ভালোবাসা মানে শুধু দায়িত্ব পালন না।
ভালোবাসা মানে—
স্ত্রীর কথা মন দিয়ে শোনা
তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া
যতটুকু সম্ভব তাকে সময় দেওয়া
(পাশে শুয়ে মোবাইল দেখাকে সময় দেওয়া বলা যায় না )
সবার সামনে ও একান্তে তাকে সম্মান করা
ছোট ছোট বিষয়েও কেয়ার দেখানো
তাকে নিরাপদ অনুভব করানো
স্ত্রীকে খুশি রাখা কোনো বিলাসিতা নয়,
এটা কর্তব্যও নয়—
এটা ভালোবাসার স্বাভাবিক প্রকাশ।
যার জন্য একদিন লড়াই করেছিলেন,
যাকে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করেছিলেন—
তাকে পেয়ে গেলে তো আরও বেশি আগলে রাখার কথা।
ভালোবাসা কমে যাওয়ার জিনিস নয়।
যে সত্যিই ভালোবাসে,
সে পেয়ে গেলেও ভালোবাসে।
পরিপাটি থাকুক বা না থাকুক—
সব অবস্থাতেই ভালোবাসে।
এটাই সত্যিকারের ভালোবাসা।
বিয়ের পর জীবন কঠিন হয়—এটা সত্য।
দায়িত্ব বাড়ে, রাগ-অভিমান হয়—এটাও স্বাভাবিক।
কিন্তু এই সব কিছুর মাঝেও
একটু কেয়ার, একটু সম্মান, একটু ভালোবাসা
একজন নারীর পুরো জীবন ভরে দিতে পারে।
আর একটা কথা—
স্ত্রী সন্তান ধারণ করলে তার শরীর, চেহারা বদলাতে পারে।
হয়তো তখন তাকে আগের মতো আকর্ষণীয় লাগবে না।
কিন্তু মনে রাখবেন—
এই পরিবর্তনটা হয়েছে আপনাকে “বাবা” ডাক শোনানোর জন্য।
আর চাইলে আপনিই তাকে আবার আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন।
সেখানে দরকার যত্ন, সময় আর সম্মান।
ভালোবাসা, প্রশংসা, সহযোগিতা—
এর চেয়ে বড় কোনো সৌন্দর্য নেই।
যে পুরুষ স্ত্রীর পরিবর্তনের কারণ বোঝে,
সে ভালোবাসা কমায় না—
বরং আরও শক্ত করে আগলে রাখে।
আর যে নারী ভালোবাসা পায়,
সে নিজের স্বামী ছাড়া আর কাউকে খোঁজে না।
(সংগৃহীত)

সর্বশেষ সংবাদ

প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান, নাকি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সূচনা?

সুফি সাগর সামস বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের সংঘাতমুখী রাজনীতি, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে প্রতিশোধের সংস্কৃতি,...

শিরোনাম: চীন-মিয়ানমার করিডরে যুক্ত হলে ২৪ ঘণ্টায় চীনে পৌঁছাবে বাংলাদেশের পণ্য: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাকে করে বাংলাদেশ থেকে চীনে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী...

জাবির বাজেট ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা, গবেষণায় বরাদ্দ শূন্য

স্টাফ রিপোর্টার | জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট। শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায়...

বিশ্বকাপ জিতবে রোনালদোর পর্তুগাল’—ঘানার পুরোহিতের চাঞ্চল্যকর দাবি

স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এক চাঞ্চল্যকর ও বিতর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন ঘানার আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব নানা কোয়াকু বোনসাম। তার দাবি, আগামী বিশ্বকাপে...

বিয়েতে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলে অতিরিক্ত জনপ্রতি ১ হাজার টাকা ট্যাক্সের প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক ঢাকা: বিয়ের অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলে অতিরিক্ত প্রত্যেক অতিথির জন্য এক হাজার টাকা করে সরকারি ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের...

জনপ্রিয় সংবাদ