
বিশেষ প্রতিবেদন : মাদকসহ হাতেনাতে ধরা পড়লেও দেশের অধিকাংশ আসামি শেষ পর্যন্ত আদালতে খালাস পেয়ে যাচ্ছেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশে দায়ের হওয়া মাদক মামলার ৫৯ শতাংশেই অভিযোগ প্রমাণ করা যায় না, ফলে আসামিদের সাজা হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তদন্তে দুর্বলতা, সাক্ষ্য সংকট ও আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা এ খালাসের মূল কারণ।
মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার থাকলেও বিচারিক প্রক্রিয়ায় আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাদক সংক্রান্ত মামলার মধ্যে প্রায় ছয়টির মধ্যে তিনটিই শেষ পর্যন্ত প্রমাণের অভাবে খারিজ হয়ে যায়। ফলে আসামিরা সহজেই মুক্তি পাচ্ছেন, আর মাদক চক্রের মূল হোতারা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক মামলার তদন্ত ও সাক্ষ্য সংগ্রহের পর্যায়ে নানা ত্রুটি থেকেই অধিকাংশ মামলার দুর্বলতা তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের প্রতিবেদন অসম্পূর্ণ থাকে বা আদালতে যথাযথ সাক্ষ্য হাজির করা যায় না। এর ফলে আদালত বাধ্য হয়ে আসামিকে খালাস দেন।
ফরেনসিক বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত নমুনার সঠিক সংরক্ষণ ও পরীক্ষার প্রক্রিয়াতেও ঘাটতি রয়েছে। দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেক সময় প্রমাণ নষ্ট হয়ে যায়, যা মামলার ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এভাবে একদিকে যেমন বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমছে, অন্যদিকে মাদক ব্যবসায়ীরা আরও সাহসী হয়ে উঠছে। তারা মনে করছে, গ্রেপ্তার হলেও শেষ পর্যন্ত আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে পার পাওয়া সম্ভব।
আইন বিশেষজ্ঞ ও সামাজিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তদন্ত প্রক্রিয়া আধুনিক করা, পুলিশের দক্ষতা বাড়ানো এবং দ্রুত বিচার ব্যবস্থাকে কার্যকর করার বিকল্প নেই। পাশাপাশি সাক্ষ্য সুরক্ষা আইন কার্যকর করা গেলে মাদক মামলায় দোষী সাব্যস্তের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হবে।
মাদকবিরোধী যুদ্ধ শুধু অভিযানে নয়, প্রমাণ-ভিত্তিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতের মাধ্যমেই সফল হতে পারে। আদালতে ৫৯ শতাংশ মামলায় খালাস পাওয়া মাদক আসামিদের বাস্তবতা ইঙ্গিত দেয়—এই লড়াই এখন মূলত বিচারব্যবস্থার ভেতরেই।


