মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬

বেসরকারি খাত সংকটে: আস্থা হারানো ব্যবসা, থমকে যাওয়া অর্থনীতি

পাঠক প্রিয়

যমুনা এলাকায় বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করেছে পুলিশ, গুলি করেনি : ডিএমপি

বাসস ঢাকা: যমুনা ও আশপাশের এলাকায় শুক্রবার বিকালে অনুষ্ঠিত হওয়া বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কোন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার...

শ্বাসরুদ্ধ লড়াইয়ে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু পাকিস্তানের

অনলাইন ডেস্ক কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচেই জমে উঠেছে লড়াই। রোমাঞ্চকর ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ৩...

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত

বাসস রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি)...

আইসিসি–পিসিবি আলোচনায় ভারত ম্যাচ বয়কট ইস্যু, অনিশ্চয়তায় ১৫ ফেব্রুয়ারির হাইভোল্টেজ লড়াই

স্পোর্টস ডেস্ক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কট ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সঙ্গে আলোচনা...

তিন শর্ত মানলেই ভারতের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্ক ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ বয়কটের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও আন্তর্জাতিক...

সুফি সাগর সামস্

বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত বেসরকারি খাত আজ গভীর সংকটে। মামলা–হামলা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট ও উচ্চ সুদের হার—সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রশাসনিক হয়রানি ও মিডিয়া ট্রায়াল, যা বেসরকারি খাতে আস্থার সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

যেকোনো ব্যবসার প্রধান পুঁজি হলো আস্থা ও বিশ্বাস। কিন্তু যখন শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা সরকারের বিভিন্ন স্তর থেকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হন, তখন শুধু ব্যক্তি ব্যবসায়ী নয়—ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন। অনেক উদ্যোক্তার কণ্ঠেই এখন একটাই অভিযোগ—এ দেশে যেন ব্যবসা করাই অপরাধ।

প্রতিকূল বাস্তবতায় বিনিয়োগ স্থবির

বর্তমান বাস্তবতায় ব্যবসাবাণিজ্যের পরিবেশ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রতিকূল। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নেই। ব্যাংক ঋণের সুদহার গিয়ে ঠেকেছে ১৬ শতাংশে। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ওপর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও শ্রম আইন সংস্কার নিয়ে দুশ্চিন্তা নতুন বিনিয়োগের পথ কার্যত রুদ্ধ করে দিয়েছে।

ফলাফল হিসেবে নতুন বিনিয়োগে কেউ এগোতে সাহস পাচ্ছেন না। বরং পুরোনো বিনিয়োগও এখন হুমকির মুখে। একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, হাজার হাজার শ্রমিক চাকরি হারাচ্ছেন। এটি শুধু শিল্পখাতের সংকট নয়—এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি।

পরিসংখ্যানে বিনিয়োগের স্থবিরতা

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত আগস্ট মাসে আমদানি দায় নিষ্পত্তি দাঁড়িয়েছে ৪.৮৮ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ শতাংশ কম। এর মূল কারণ—মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির উল্লেখযোগ্য হ্রাস। অর্থাৎ নতুন কারখানা স্থাপন বা শিল্প সম্প্রসারণ কার্যত থেমে গেছে।

যদিও নতুন এলসি খোলা সামান্য বেড়েছে, তবে তা মূলত ভোগ্যপণ্য আমদানির জন্য। অর্থনীতিবিদদের মতে, বিনিয়োগ না থাকলে কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির চাহিদা কমে যাওয়া স্বাভাবিক। উচ্চ সুদের হার ও ব্যাংক খাতে উচ্চ খেলাপি ঋণ বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে।

পাঁচ মাস পর বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি আবারও নেতিবাচক পর্যায়ে নেমে গেছে। জুনের তুলনায় জুলাইয়ে কোনো প্রবৃদ্ধি হয়নি; বরং আগের মাসগুলোর নিম্নমুখী ধারা আরও তীব্র হয়েছে। এতে শিল্প ও ব্যবসাবাণিজ্যে মন্দাভাব তৈরি হয়েছে, কমছে নতুন কর্মসংস্থান, অর্জিত হচ্ছে না লক্ষ্যমাত্রার জিডিপি প্রবৃদ্ধি।

আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২৫ সালের বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিবেশ প্রতিবেদনে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পাঁচটি বড় বাধার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, সীমিত অর্থায়ন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, বৈষম্যমূলক করকাঠামো ও দুর্নীতি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসন সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে বিনিয়োগ পরিবেশে তেমন ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি।

অন্যদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে—নতুন মার্কিন শুল্ক, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও ব্যাংক খাতের দুর্বলতা বিনিয়োগ ও রপ্তানিকে বড় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ বাজারে ধাক্কা

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ২৬টি দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে। মোট রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে ২.৬৩ শতাংশ। শুধু পোশাক নয়—শাকসবজি, মাছ, হিমায়িত খাদ্য ও অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানিতেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও বিক্রি কমেছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এক বছরে ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ, কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে বাজারে স্থবিরতা আরও গভীর হয়েছে।

আস্থা ফেরানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের ‘বাংলাদেশ স্টেট অব দ্য ইকোনমি ২০২৫’ প্রতিবেদনেও স্বীকার করা হয়েছে—দেশের অর্থনীতি সংকটময় সময় পার করছে। দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প কার্যক্রমকে প্রবৃদ্ধির প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই বাস্তবতায় আগামী সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বেসরকারি খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা। ব্যবসায়ীরা যেন ভয়হীন পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। ‘আমরা এর লোক, তারা তার লোক’—এই বিভাজনের রাজনীতি পরিহার না করলে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন।

মনে রাখতে হবে, কয়েকজন ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ ব্যবসায়ীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তাদের পরিচয় একটাই—তারা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার যোদ্ধা। তাদের বাদ দিয়ে নয়, হয়রানি করে নয়—আস্থার হাত ধরেই গড়তে হবে আগামীর বাংলাদেশ।

সুফি সাগর সামস্
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি।

সর্বশেষ সংবাদ

ক্ষমতায় গেলে সময়মতো পে-স্কেল বাস্তবায়ননের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

অনলাইন ডেস্ক ঢাকা, সোমবার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে নতুন পে-স্কেল...

শামস্ তাব্রিজি ও জালাল উদ্দিন রুমির আত্ম উন্নয়নের শিক্ষা

মাওলানা রুমির নিমন্ত্রণে গুরু শামস তাব্রিজি এলেন এক রাতে। খাওয়াদাওয়া শেষে, রুমির কাছে মদের আবদার করে বসলেন গুরু। রুমি স্তব্ধ! "গুরু, আপনি মদ্যপান করেন?" তাব্রিজির শান্ত...

বেকারত্বের অভিশাপ মুক্ত করতে ইপিজেড গড়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে: তারেক রহমান

অনলাইন প্রতিবেদক ঢাকা, সোমবার: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ঢাকা-৫ আসনে দ্রুত একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) গড়ে তোলা হবে। এতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি...

দেশ দুই ভাগে বিভক্ত, একদিকে মদিনার ইসলাম অন্যদিকে মওদূদীবাদী ইসলাম : রফিকুল আলম মজনু

ফেনী প্রতিনিধি ফেনী-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু বলেছেন, দেশ বর্তমানে দুই ধারায় বিভক্ত। একদিকে মদিনা ভিত্তিক প্রকৃত ইসলাম, অন্যদিকে মওদূদীবাদী ইসলাম—যা...

তারা ব্যালট ছাপাচ্ছে, এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করছে, বোরকা কিনছে : আমীর খসরু

অনলাইন ডেস্ক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ...

জনপ্রিয় সংবাদ