
অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর, বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি, এবং চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনের জন্য প্রচার চলবে ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সব রাজনৈতিক দল স্বাগত জানিয়েছে। তবে শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশন বা সরকার নির্বাচনের সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে পারে না। এর মূল দায়িত্ব এখন রাজনৈতিক দলগুলোর উপর। এবারের নির্বাচন শুধু জয়-পরাজয়ের বিষয় নয়; এটি জুলাই বিপ্লবের রক্তাক্ত আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত ধাপ।
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি বিশ্বাস করে, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রথমত, ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে যাবে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের কারণে। তাই প্রার্থীদের মূল দায়িত্ব হবে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দিতে উৎসাহিত করা।
দ্বিতীয়ত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা অপরিহার্য। নির্বাচনের সময়ে সহিংসতা, কেন্দ্র-দখল ও সন্ত্রাস নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। প্রার্থীরা যদি দায়িত্বশীল এবং সহনশীল আচরণ না করেন, তবে নির্বাচন কখনো সুষ্ঠু হতে পারে না।
তৃতীয়ত, আচরণবিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক। নির্বাচনের নিয়ম হলো খেলার রুলস। যারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করবে, তারা ভোটের পরিবেশ নষ্ট করবে এবং জনগণ হতাশ হবে। এ নির্বাচনের পটভূমি রক্তস্নাত আন্দোলনের ওপর তৈরি হয়েছে; তাই আচরণবিধি লঙ্ঘন সহ্য করা যায় না।
চতুর্থত, প্রশাসনের ওপর হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে হবে। নির্বাচনের দায়িত্ব পালনকারীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা, ভয়ভীতি বা প্রলোভন দেখানো, সবই নির্বাচন ধ্বংসের অন্যতম কারণ। প্রার্থীরা প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করলে প্রশাসন বাধ্য হয়ে নিরপেক্ষ থাকবে।
পঞ্চমত, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের রাজনৈতিক প্রভাব রোধ করতে হবে। নির্বাচনে এই ধরনের মানুষদের ব্যবহার করলে শুধু নির্বাচনই প্রশ্নবিদ্ধ হয় না, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি থমকে যায়।
প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এখন সময় তাদের প্রমাণ করার যে, তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক। সরকার ও নির্বাচন কমিশন শুধু রেফারি; খেলোয়াড়রা যদি ফাউল করে, খেলা কখনো সুন্দর হয় না।
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টির কাছে এবারের নির্বাচন এক বড় সুযোগ। এটি হবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার রূপক এবং দেশের মানুষের বিশ্বাসযোগ্য ভোটাধিকার প্রক্রিয়া প্রমাণ করার মঞ্চ। রাজনৈতিক দলগুলো যদি দায়িত্বশীল ও সম্মিলিতভাবে কাজ করে, তবে এটি ইতিহাসে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে চিহ্নিত হবে। অন্যথায়, এটি আরেকটি বিতর্কিত নির্বাচন হয়ে যাবে।
সর্বোপরি, নির্বাচনের সাফল্য নির্ভর করছে দলগুলোকে কতটা দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ এবং গণতন্ত্রের প্রতি আন্তরিক তারা। জয়-পরাজয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জনগণ ভোট দিতে সক্ষম হোক, ভয়মুক্ত হোক, এবং নির্বাচনের প্রতি আস্থা স্থাপন করতে পারুক। এ দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের।
সুফি সাগর সামস্
ভাপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি।


