ইব্রাহিম খলিল বাদল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোটি টাকার প্রভাব আগের মতোই প্রবল; সাধারণ ও সৎ প্রার্থীর জন্য পথ বন্ধ। ব্যাংকে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বৃদ্ধিও প্রশ্নবিদ্ধ।
নির্বাচনে কোটিপতির আধিক্য
ঢাকার ২০ আসনের মধ্যে বিএনপির ১১ জন, জামায়াতের ১৩ জন প্রার্থী কোটি টাকার মালিক। চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জ ও রাজশাহীতে এই সংখ্যার ঢেউ বইছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে পর্যন্ত দেখা গেছে বহুদূর বিদেশী ফ্ল্যাটসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ। রাতারাতি বেড়ে যাওয়া এই সম্পদের উৎস এখনও অনিশ্চিত।
অর্থের প্রভাব বনাম জনগণের কল্যাণ
এ ধরনের প্রার্থীরা নির্বাচনে মূলত নিজের সম্পদ রক্ষা ও বৃদ্ধি করতে চান। জনগণের কল্যাণ বা সেবার প্রতি আগ্রহ শূন্য। নির্বাচন এখন সৎ ও যোগ্য মানুষের জন্য কঠিন নয়, অসম্ভব—ড. কামাল হোসেনের কথার সত্যতা প্রমাণিত হচ্ছে।
অর্থনীতি বিপর্যস্ত, ধনীর সংখ্যা বাড়ছে
দেশের দারিদ্র্য হার ২৭.৯৩ শতাংশে পৌঁছেছে; মধ্যবিত্তের সঞ্চয় হ্রাস পাচ্ছে, নিম্নবিত্ত ঋণে ডুবে যাচ্ছে। তার মধ্যেও কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ২৮ হাজারে দাঁড়িয়েছে, ব্যাংকে জমা হয়েছে ৫৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই ধনীর ঊর্ধ্বগতিকে বিশেষজ্ঞরা “স্বাভাবিক বাজারের আচরণ নয়” বলে মন্তব্য করেছেন।
বাস্তবতা বনাম বিপ্লবের স্বপ্ন
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য ছিল দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ। কিন্তু নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থীর আধিক্য এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য দেখাচ্ছে, শুধু নেতৃত্ব বদলেছে, প্রক্রিয়া নয়। সাধারণ মানুষ ও সৎ প্রার্থীর জন্য নির্বাচনের মাঠ এখনও বন্ধ।
নির্বাচন কেবল ভোটের লড়াই নয়, এটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের রণক্ষেত্র। অর্থের প্রভাব যদি এতটাই প্রবল থাকে, তবে গণতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য—জনগণের অংশগ্রহণ ও কল্যাণ নিশ্চিত করা—কোথায় থাকবে? নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন তখনই বাস্তব হবে, যখন যোগ্যতা, সততা ও জনকল্যাণকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে, আর কোটি টাকার খেলোয়াড়দের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করা হবে।
ইব্রাহিম খলিল বাদল
সাংগঠনিক সম্পাদক
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি।


