সুফি সাগর সামস্

কুরাইশ বংশ থেকেই ইসলামের দু’টি ধারার সৃষ্টি হয়েছে। একটি মহানবী রসূলে করিম (স) থেকে হযরত আলী (রা) এর বংশ পরম্পরায় কাদরিয়া, চিশতিয়া, নকশাবন্দিয়া-মুজাদ্দেদিয়া তরিকার ইসলাম। অন্যটি মুয়াবিয়া-ইয়াজিদের মাধ্যমে রাজশক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় ইয়াজিদি-ওয়াহাবি আকিদার অনুষ্ঠানসর্বস্ব ইসলাম। ইসলামের ওই দুটি ধারা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে। ভারত উপ-মহাদেশে চিশতিয়া তরিকার ইমাম মহানবী রসূলে করিম (স) এর ১৭তম প্রতিনিধি ও বংশধর হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (র) এর নেতৃত্বে ব্যাপকভাবে প্রচার ও প্রতিষ্ঠালাভ করেছে। তাঁর প্রধান খলিফা ছিলেন, হযরত বখতিয়ার কাকি (র)। বখতিয়ার কাকির খলিফা ছিলেন, হযরত শেখ ফরিদ উদ্দিন (র)। শেখ ফরিদের খলিফা ছিলেন, হযরত নিজাম উদ্দিন আউলিয়া (র) এবং সাবরিয়া তরিকার ইমাম হযরত আলাউদ্দিন আল সাবের কালিয়ার (র)। মহানবী (স) এর ১৮তম প্রতিনিধি নক্শবন্দিয়া তরিকার ইমাম হযরত বাহাউদ্দিন নক্শবন্দ (র)। মহানবী (স) এর ২৫তম প্রতিনিধি মুজাদ্দেদিয়া তরিকার ইমাম হযরত মুজাদ্দেদে আলফেসানী (র)। মহানবী (স) এর ৩৩তম প্রতিনিধি শহীদ সৈয়দ আহমদ বেরলভী (র) প্রমুখ মহান আউলিয়াগণ ছাড়াও আরো অসংখ্য পীর-আউলিয়া ভারতবর্ষে তরিকতের ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার জন্য জান-মাল কুরবানী করে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছেন।
হযরত বায়জিদ বোস্তামি (র), সৈয়দ বখতিয়ার মাহি সাওয়ার (র), খাজা খান জাহান আলী (র), হযরত শাহ্ মাখদুম (র.), সিলেট ও হবিগঞ্জে হযরত শাহ জালাল (র) এর নেতৃত্বে ৩৬০ জন আউলিয়াসহ হযরত শাহ পরাণ (র) হযরত নাসির উদ্দিন সিপাহসালার (র), বগুড়ায় হযরত শাহ সুলতান বলখি (র), রাজশাহীতে হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (র), চট্টগ্রামে বার আউলিয়াসহ হযরত শাহ্ পীর (র), ময়মনসিংহ-নেত্রকোনায় হযরত শাহ্ সুলতান কোমর উদ্দিন রুমি (র), ঢাকায় হযরত শাহ নিয়ামত উল্লাহ বুদ শেখর (র) প্রমুখ মহান পীর-আউলিয়াগণ পূর্ব-বাংলায় প্রথম বিলায়েতের তরিকতের ইসলাম কায়েম করেন।
মহানবী রসূলে করিম (স) এর ২৮তম প্রতিনিধি হযরত আবদুর রহিম শহীদ (র), লক্ষ্ণীবাজার, ঢাকা। তাঁর খলিফা মহানবী (স) এর ২৯তম প্রতিনিধি হযরত শাহ আমানত উল্লাহ (র), চট্টগ্রাম। তাঁর খলিফা মহানবী (স) এর ৩০তম প্রতিনিধি ও বংশধর হযরত সৈয়দ মুহম্মদ দায়েম (র), আজিমপুর দায়রা শরীফ, ঢাকা। মহানবী (স) এর ৩৪তম প্রতিনিধি হযরত নূর মুহম্মদ নিজামপুরী (র), চট্টগ্রাম। মহানবী (স) এর ৩৫তম প্রতিনিধি ও বংশধর সৈয়দ ফতেহ আলী ওয়সী (র), কলকাতা, ভারত। তাঁর খলিফা ও মহানবী (স) এর ৩৬তম প্রতিনিধি হযরত মাওলানা আহমদ আলী ওরফে জান শরীফ শাহ সুরেশ্বরী (র), সুরেশ্বর দায়রা শরীফ, শরীয়তপুর। হযরত ইউনুস আলী (র), এনায়েতপুর, সিরাজগঞ্জ। হযরত হাসমত উল্লাহ (র), আটরসি দরবার শরীফ, ফরিদপুর। সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ (র), চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফ, ফরিদপুর এবং সৈয়দ মাহবুব-ই-খোদা, দেওয়ানবাগ দরবার শরীফ, কুতুববাগ দরবার শরীফ, রাজারবাগ দরবার শরীফ, ঢাকা। হযরত শাহ আলী বাগদাদী (র), মিরপুর মাজার শরীফ, ঢাকা। হযরত শরফুদ্দিন চিশতি (র) হাইকোর্ট মাজার শরীফ, ঢাকা। হয়রত শাহলাল শাহ (র) নূরল্লাপুর দরবার শরীফ, দোহার, ঢাকা। হযরত আহম্মদ উল্লাহ (র), মাইজ ভান্ডার দায়রা শরীফ, চট্টগ্রামসহ অসংখ্য অলিয়ে কামিল মহানবী (স) এর তরিকতের ইসলাম শিক্ষা-দীক্ষার মধ্য দিয়ে তাঁদের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন।
মহানবী রসুলে করিম (স) এর বংশের ১৪তম প্রতিনিধি ও বংশধর হযরত বড় পীর মুহিউদ্দিন আব্দুল কাদির জিলানি (র) বলেছেন, তোমার অস্তিত্ব বিলিন না হওয়া পর্যন্ত ওয়াজ করিও না। প্রথমে শরীয়তের আদেশ-নিষেধ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করে শক্তিশালী হও, তারপর দেখ উহার স্বাদময় আল্লাহর নৈকট্য ও রহস্য কত আনন্দ ও সুন্দর। এই বাণী প্রদানের পূর্বে হযরত বড় পীর (র) এর জীবনে একটি বিশেষ অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল। তিনি তখন মুসলিম জাহানের সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাক্কিক, মুহাদ্দিস, ফিকাহ শাস্ত্রবিদ তথা সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী মহাপুরুষ। এ সময় তিনি সর্বক্ষণ নীরব থাকতেন। কি যেন ভাবতেন। তখন বাগদাদের প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাঁকে হেড মুদারিসের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য পীড়াপীড়ি করত। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজন ওয়াজ মাহফিলে ওয়াজ করার জন্য অনুনয় বিনয় করত। কিন্তু তিনি ছিলেন নীরব।
এ সময় মুসলিম জাহানের অবস্থা ছিল বড়ই করুন। হঠাৎ একদিন একটি অচেনা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত কঙ্কালসার ব্যক্তি হযরত বড় পীর (র) এর সম্মুখে পড়ে কাতরাচ্ছিলেন। লোকটি আর্তনাত করে তাঁকে বলছিলেন, হুজুর, আমি একটি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত, আপনি দয়া করে আমাকে একটু স্পর্শ করুন, আপনি স্পর্শ করলে আমার এই দুরাােগ্য ব্যাধি ভালো হয়ে যাবে। হুজুর, আমার প্রতি দয়া করুন, আমার প্রতি একটু করুণা করুন। লোকটির কাতরতায় হযরত বড় পীর ভাবলেন, লোকটি হয়তো পাগল, তা-না হলে এরকম উদ্ভট কথা কেউ বলে, আমি তাকে স্পর্শ করলেই তার দুরারোগ্য ব্যাধি ভালো হয়ে যাবে! এরকম সাত পাঁচ ভেবে হযরত বড় পীর চলে যেত উদ্যত হলে লোকটি হযরত বড় পীরের পথ আগলে ধরে বলেন, হুজুর, আল্লাহর ওয়াস্তে আমার প্রতি দয়া করুন। আল্লাহর ওয়াস্তে তথা আল্লাহর দোহাই দেওয়াতে হযরত বড় পীর থমকে দাঁড়ান। তিনি লোকটিকে দাঁড় করানোর উদ্দেশ্যে তার একটি হাত ধরেন। হযরত বড় পীর লোকটির হাত ধরামাত্রই তার শরীর অস্বাভাবিভাবে পরিবর্তিত হতে থাকে। মুহুর্তের মধ্যে লোকটি একজন যুবকে পরিণত হয়। তখন আকাশে বাতাসে ধ্বনি-প্রতিধ্বনি হতে থাকে ‘ইয়া মুহিউদ্দিন, ইয়া মুহিউদ্দিন’। অর্থ : হে ধর্মের পুণর্জন্মদানকারী, হে ধর্মের পুণর্জন্মদানকারী।
অলৌকিকভাবে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় হযরত বড় পীর চিন্তামগ্ন হয়ে পড়েন। তিনি এই ঘটনার মর্মার্থ নিয়ে গভীর ভাবনায় নিমগ্ন হন। ভাবতে ভাবতে এক সময় তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। তন্দ্রাবস্থায় তিনি দেখেন, তাঁর ঘর ঐশ্বরিক আলোয় আলোকিত হয়ে গেছে। মহানবী রসূলে করিম (স) তাঁর কাছে আগমন করেছেন। নবীজি তাকে বলছেন, হে আমার প্রিয় আব্দুল কাদির, আপনি নীরব কেন? আমার দীন ইসলামের এই করুণ অবস্থার মধ্যে আপনি চুপ করে আছেন কেন? আল্লাহ-রসূল সম্পর্কে মানব জাতিকে সচেতন করে তুলুন। আমার দীন ইসলাম এখন ওই কঙ্কালসার মানুষটির মত হয়ে গেছে। যে মানুষটি আপনার স্পর্শে যুবকে পরিণত হয়েছে। আপনি আর চুপ করে থাকবেন না।
মহানবী রসূলে করিম (স) এর এই পবিত্র বাণী শুনে হযরত বড় পীর (র) হাতজোড় করে হাটুভেঙ্গে বসে নবীজি (স)-কে বললেন, ইয়া রসূলুল্লাহ, ইয়া হাবিবুল্লাহ, মহান আল্লাহ ও আল্লাহর রসূলের তরিকত কি যথাযথ আদবরক্ষা করে কোনো মানুষ বয়ান করতে পারে? কোন্ বাক্য কত বিনয়ের সাথে নিম্নস্বরে বলতে হবে আর কোন্ বাক্য কত উচ্চস্বরে চিৎকার করে বলতে হবে তা কিভাবে আমি রক্ষা করব? কোনো একটি বাক্য যদি আমি উচ্চস্বরে বলে বে-আদবী করে ফেলি, শুধুমাত্র এই ভয়ে আমি চুপ করে আছি। ইয়া রসূলুল্লাহ (স), দয়া করে আমাকে ক্ষমা করুন।
হযরত বড় পীরের এই মিনতি শুনে মহানবী রসূলে করিম (স) সন্তুষ্ট হয়ে বললেন, আপনি হাঁ করুন। সঙ্গে সঙ্গে বড় পীর হাঁ করলেন। তখন মহানবী (স) বড় পীরের মুখে ফুঁক দিয়ে বললেন, এখন থেকে আপনার জবান থেকে যে বাক্য উচ্চারিত হবে তা আপনার জবানের বাক্য হবে না, তা সম্পূর্ণই আল্লাহ ও আল্লাহর রসূলের জবানে বলা হবে। মহান আল্লাহ ও আল্লাহর রসূল আপনার জবানে ওয়াজ করবেন। এই ঘটনার পর হযরত বড় পীর (র) ওয়াজ শুরু করেন। জিন, ফিরিস্তা, রাজা-বাদশা, আমির-ওমরাহগণ ছব্ধবেশ ধারণ করে মাহফিল প্রাঙ্গণে সাধারণ মানুষের মধ্যে একাকার হয়ে হযরত বড় পীর (র) ওয়াজ শ্রবণ করতেন। এ ধরনের আদব-আখলাকের মধ্য দিয়ে আল্লাহ ও আল্লাহর রসূল (স) এর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে আত্মশক্তি অর্জন করার শিক্ষা-দীক্ষা বর্তমানের আলেম-উলামাদের মধ্যে কোথায়? ভরতবর্ষে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে কওমি শিক্ষা-সংস্কৃতি প্রচলিত হওয়ার পর থেকে বিনয়তা ও আদব-আখলাকের রসুল (স) এর তরিকতীয় শিক্ষা-সংস্কৃতি বিলুপ্তির পথে অগ্রসরমান রয়েছে।
মক্কা বিজয়, সিন্ধু বিজয়, বঙ্গ বিজয় হয়েছিল মহানবী (স) এর ইসলামী আকিদার ঈমানী আত্মশক্তির বলেই। এই শক্তিবলে ৩১৩ জন মুসলিম মুজাহিদ সহাস্রাধিক উমাইয়া বীর সৈনিকের উপর বিজয়ী হয়েছিল। ১৭ জন মুসলিম সৈনিক সেন বংশীয় রাজত্বের পতন ঘটিয়েছিল। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে ১৬ বছরের যুবক মুহম্মদ বিন কাসিমের হাতে রাজা দাহিরের পতন হয়েছিল। হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশ্তি (র) এর আধ্যাত্মিক শক্তির প্রভাবে লক্ষ লক্ষ অমুসলিম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল।
১১৯২ খ্রিস্টাব্দে আধ্যাত্মিক শক্তি বলে হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (র) এর নির্দেশে গজনীর শাসনকর্তা মুহম্মদ ঘুরী সম্রাট পৃত্থিরায় চৌহানকে পরাজিত করেছিলেন। প্রথম ১১৯১ খ্রিস্টাব্দে থানেশ্বরধীন তরাইন অঞ্চলের যুদ্ধে মুহম্মদ ঘুরী পরাজিত হয়েছিলেন। কিন্তু তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধের পূর্বে স্বপ্নযোগে একজন বুযুর্গ ব্যক্তি মুহম্মদ ঘোরীকে ভারত অভিযানের জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই নির্দেশ অনুযায়ী তিনি ভারতে সফল অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। তিনি পৃত্থিরায়কে পরাজিত করে দিল্লী জয় করেছিলেন। তিনি দিল্লী জয় করে জানতে পারেন যে, ইতিমধ্যে পৃত্থিরায়ের সাথে একজন মুসলিম ফকিরের আধ্যাত্মিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। এই যুদ্ধে পৃত্থিরায় পরাজিত হয়েছেন। ওই ফকির এখন আজমীর অঞ্চলে অবস্থান করছেন।
সুলতান মুহম্মদ ঘুরী মুহুর্ত সময়ক্ষেপণ না করে আজমীরের উদ্দেশ্যে ছুটে যান। তিনি যখন আজমীর পৌঁছেন তখন খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (র) আসরের জায়াতে নামাজরত ছিলেন। মুহম্মদ ঘুরীও এই জামায়াতে নামাজ আদায় করেন। যখন নামাজ শেষ হয় তখন মুহম্মদ ঘুরী অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করেন যে, এই মহান ফকিরই তাকে স্বপ্নযোগে ভারত অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি প্রচন্ড আবেগে খাজা গরীবে নেওয়াজের চরণে লুটিয়ে পড়েন। চিৎকার করে কেঁদে কেঁদে নিজের আবেগ প্রশমিত করেন।
অত:পর তিনি খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (র)-কে দিল্লীর সিংহাসনে আরোহনের জন্য আহ্বান করেন। তাঁর এই আহ্বানের জবাবে খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (র) মুহম্মদ ঘুরীকে বলেছিলেন, আমি ফকির মানুষ, ফকিরিই আমার কাছে উত্তম। আপনাকে মহান আল্লাহ বাদশাহী দান করেছেন, আপনি বাদশাহী করুন। এ সময় মুহম্মদ ঘুরী খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (র)-কে তার প্রতি অসিয়ত করার জন্য অনুরোধ করেন। মুহম্মদ ঘুরীর অনুরোধে খাজা গরীবে নেওয়াজ বলেছিলেন, আমি যে কথা যুদ্ধের পূর্বে পৃত্থিরায়কে বলেছিলাম, ওই একই কথা আপনাকেও বলছি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল প্রজাদের নিজ সন্তানের মত প্রতিপালন করবেন।
আধ্যাত্মিক ও সামরিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ আক্রমনের মাধ্যমেই সম্রাট পৃত্থিরায় চৌহানকে পরাজিত করা সম্ভব হয়েছিল। শুধু সামরিক অভিযান করে পৃত্থিরায়কে পরাজিত করা সম্ভব ছিল না। সুতরাং মুসলমানদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মাজার ও পীর-ফকির বিদ্বেষি প্রচলিত কওমি আকিদা অবলম্বন করে ইসলামী শাসনতন্ত্র কায়েম করা যাবে না। মুসলমানদের আধ্যাত্মিক শক্তির গৌরবময় ইতিহাস ইঙ্গ-মার্কিন চক্র ভূলে যায়নি। এ জন্যই তারা গভীর ষড়যন্ত্র করে ভারত উপ-মহাদেশে নবী মুহম্মদ (স) এর তরিকতীয় শিক্ষার বিরুদ্ধে কওমি শিক্ষার প্রচলন করেছে। ব্রিটিশ আগমনের পূর্বে ভারতবর্ষে কওমি শিক্ষার প্রচলন ছিল না। তারা কওমি শিক্ষা-সংস্কৃতি প্রচলনের মধ্য দিয়ে মুসলিম জাতিকে মুসলিম জাতির দুশমনে পরিণত করে দিয়েছে। মুসলমানদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের লেলিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে ভারত উপ-মহাদেশে মুসলমান মুসলমানের শত্রু। কওমি শিক্ষার প্রচলন করে ঐক্যবদ্ধ মুসলিম জাতিকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। সামপ্রদায়িক ও সন্ত্রাসী মুসলিম জাতিতে পরিণত করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী আজ মুসলমানরা উগ্র-সামপ্রদায়িক জঙ্গী মুসলিম জাতি হিসেবে পরিচিতিলাভ করেছে। কিন্তু নবীর তরিকতীয় ইসলামে সামপ্রদায়িকতা ও উগ্রতার কোনো স্থান নেই। আলেম-উলামাদেরকে এসব বিষয়সমূহ নিয়ে ভাবতে হবে।
লেখক :
সুফি সাগর সামস্
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি ও
মানবিক নতুন বিশ্বব্রবস্থার রূপকার।


